ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফলতা পাওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ,Career, শক্তি হচ্ছে ইচ্ছা শক্তি এবং প্রবল আগ্রহ। একজন সফল ব্লগার হতে হলে আপনাকে ব্লগিং ক্যারিয়ারে লেগে থাকতে হবে এবং প্রচুর সময় ব্যায় করতে হবে। নতুনদের জন্য ব্লগিং একটি স্বপ্নের মত। অনেকের স্বপ্ন পূরন হয় অনেকের হয় না। ব্লগিং ক্যারিয়ারে অনেক গুলো ছোট খাটো ভূল রয়েছে যেগুলো করলে কখনই ব্লগিং এ সফলতা পাওয়া যায় না। বর্তমান যুগ প্রতিযোগিতার যুগ। অনলাইনে রাজত্ব করতে হলে অবশ্যই সঠিক উপায়ে জেনে বুঝে ব্লগিং করতে হবে।
Read More –
ভাওয়াল রিসোর্ট খরচ, ভাওয়াল রিসোর্ট এন্ড স্পা
মেয়েদের জন্য কোন ফেসওয়াশ সবচেয়ে ভালো
ব্লগিং কি? ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়
জমি ক্রয়ের পূর্বে ক্রেতার করণীয়
ঠিকানা রিসোর্ট, ঠিকানা রিসোর্ট খরচ, ঠিকানা রিসোর্ট কোথায়,
যারা এখনও ব্লগিং শুরু করেন নাই তারা গুগলে সার্চ দিয়ে অথবা ইউটিউব দেখে ব্লগিং শুরু করতে পারেন। তবে ব্লগিং শুরু করার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে কিছু বিষয় মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। নয়তো আপনার সফলতা পেতে অনেক সময় লেগে যাবে যেটা আমার ক্ষেত্রে হয়েছে। আজকের আর্টিকেলে আমার কিছু অভিজ্ঞতা ও ব্লগিং এ সফল হওয়ার উপায় ও ব্লগিং এ যেই ভূল গুলো করা যাবে না ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।
![]() |
| ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফলতা পাওয়ার উপায় |
আমার ব্লগিং যাত্রার শুরু ও ছোট গল্প
২০১৯ সালে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট এর সাথে পরিচিত হয়ে ব্লগিং শুরু করেও সফল হতে পারিনি। এখন ২০২৩ সালে এসে সফলতার মুখ দেখেছি। তবে সফল না হওয়ার অনেক কারণ ছিল। যখন আমি ব্লগিং এর সাথে পরিচিত হই তখন শুধু এটাই জেনেছি যে ব্লগিং করে লাখ লাখ টাকা আয় করা যায়। কিন্তু সঠিক নিয়ম না জানার কারনে ব্লগিং শুরু করেও ভালো কিছু করতে পারি নি। তখন আর্টিকেল লিখার ক্ষমতা ছিল না। পরবর্তীতে আমাকে ব্লগিং ছেড়ে দিতে হয়েছে। দীর্ঘ ৪ বছর অন্য স্টুডেন্ট এর পাশাপাশি অন্য পেশায় যুক্ত ছিলাম।
দীর্ঘ এত বছর পর আমার মনে হলো আমার পুরো স্মৃতি ব্লগিং ক্যারিয়ার টা আবার শুরু করতে চাই। তাই ২০২৩ সালে এপ্রিল মাসে ব্লগিং শুরু করি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে। কিন্তু তখন আবার ভূল করে এমন ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ শুরু করি যেটার সম্পর্কে আমার তেমন জ্ঞান ছিল না। পরবর্তী সময় আরেকটি ওয়েবসাইট শুরু করে দুই মাস কাজ করে বেশ সফলতা অর্জন করেছি। প্রভাতিটেক.কম (ProvatiTech.com) এটা আমার ৮ নাম্বার ওয়েবসাইট।
ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার ১০ টি উপায়
ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফলতা অর্জন করতে অনেকগুলো বিষয় জেনে নিয়ে মাথায় রেখে কাজ করে যেতে হয়। ব্লগিং এ সফল হওয়া যতটা সহজ ততটা কঠিন। এটা নির্ভর করছে সম্পুর্ণ আপনার উপর। আপনার যদি ব্লগিং করা মন থেকে ভালো লেগে থাকে এবং টাকার লোভে ব্লগিং করাটা উদ্দেশ্যে না হয়ে থাকে তাহলে ব্লগিং শুরু করলে যেমন সফল হতে পারবেন তেমন ব্লগিং করে ইনকামও করতে পারবেন।
- সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্লগিং শুরু করা
- নিয়মিত পোস্ট করা
- সঠিক ডোমেইন নির্বাচন করা
- ভিজিটর না পেয়ে হতাশ না হওয়া
- শুরুতেই টাকা আয়ের চিন্তা না করা
- একটা ব্লগ সাইট নিয়ে কাজ করা
- ভালো করে এস.ই.ও (SEO) করা
- কোয়ালিটি সম্পন্ন আর্টিকেল লেখা
- থিম বা টেমপ্লেট বার বার চেঞ্জ না করা
- সাইট নিয়ে দিধাদন্দে না থাকা
সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্লগিং শুরু করা
ব্লগিং শুরু করার সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক বেশি জরুরী। ব্লগিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়ার আগে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। অনেকেই ব্লগিং মনের সুখে শুরু করে অনেকে কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই একটি ওয়েবসাইট খুলে রেখে হটাৎ হটাৎ পোস্ট করে। বিভিন্ন ছবি আপলোড করে। উদ্দেশ্য ছাড়াই অর্থাৎ তারা ভাবে যে আমার একটা পারসনাল ওয়েবসাইট থাকবে এই আর কি।
ব্লগিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে আপনাকে ভাবতে হবে যে আপনার কি ব্লগিং এ নিজ আগ্রহ রয়েছে কিনা। কেউ একজন ব্লগিং করে তার দেখাদেখি শুরু করে দিলেন এতে আপনার পরবর্তীতে গিয়ে দেখলেন কোনো আগ্রহ নেই। এতে আপনি বেশি দূর যেতে পারবেন না। তাই আপনাকে অবশ্যই সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্লগিং শুরু করা উচিৎ।
সঠিক ডোমেইন নির্বাচন করা
নিয়মিত পোস্ট করা
ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় নিয়মিত আর্টিকেল পোস্ট করার জন্য এবং অবশ্যই তাদের জন্য আর্টিকেল পোস্ট করা হয় যারা নিয়মিত আর্টিকেল পড়ে। নিয়মিত পোস্ট না করলে প্রথম দিকে সফলতা পাওয়াটা অনেক কষ্টসাধ্য। তাই আর্টিকেল লেখার নিয়ম পড়ুন ও নিয়মিত আর্টিকেল পোস্ট করুন।
কারন আপনি যখন নিয়মিত ইউনিক ও কোয়ালিটিফুল পোস্ট করতে থাকবেন তখন সার্চ ইঞ্জিন আপনার ব্লগকে র্যাংক করতে থাকবে। আর যদি কয়েকটি পোস্ট লিখে পোস্ট করা বন্ধ করে দেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটকে পস হিসেবে ধরবে এবং আস্তে আস্তে ডাউন হয়ে যাবে।
ভিজিটর না পেয়ে হতাশ না হওয়া
যারা কিছু হলো ব্লগিং শুরু করেছেন বা শুরু করবেন তারা খেয়াল করে দেখবেন যে প্রথম দিকে কোনো ভিজিটরই নাই। এতে অনেকে ভেঙ্গে পড়ে কারন তারা চিন্তা করে যে এত কষ্ট করে আর্টিকেল লিখি অথচ কেউ পড়েই না। কিন্তু না আপনাকে হতাশ হওয়া যাবে না। নিয়মিত এসইও ফ্রেন্ডলী পোস্ট করেই যেতে হবে। তবে আপনি আস্তে আস্তে ভিজিটর পেতে শুরু করবেন ইনশাআল্লাহ।
শুরুতেই টাকা আয়ের চিন্তা না করা
ব্লগিং শুরু করার সাথে সাথে টাকা আয় করা সম্ভব না। অনেকেই ব্লগিং শুরু করার কিছুদিন যাওয়ার পর টাকা আয়ের চিন্তা করতে থাকে। কিভাবে ব্লগ থেকে টাকা আয় করা যায় এটা নিয়ে পড়ে থাকে। এতে করে প্রথম দিকে টাকা আয়ের উপায় না পেয়ে পোস্ট করা বন্ধ করে দেয় এবং হতাশ হয়ে পড়ে।
কিন্তু আপনি মনে রাখবেন আপনার ওয়েবসাইট যখন রেডি হবে অনেকগুলো আর্টিকেল পাবলিশ করবেন। সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর আসতে শুরু করবে। তখন আপনি আপনার ব্লগ থেকে ঠিকই আয় করতে পারবেন। তাই প্রথম দিকে ধৈর্য ধরে থাকুন।
একটা ব্লগ সাইট নিয়ে কাজ করা
অনেকে শুরুতেই বেশি টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে অনেকগুলো ব্লগ নিয়ে কাজ করা শুরু করে। একটা নিউজ নিয়ে খোলে আরেকটা হেলথ নিয়ে আরেকট টেক নিয়ে। এতে কোনো ব্লগেই কোয়ালিটিফুল ভাবে আর্টিকেল প্রকাশ করতে পারে না। ফলে ওয়েবসাইট র্যাংক করে না হতাশ হয়ে পড়ে।
শুরুতে কখনই এমন করতে যাবেন না। আপনি একটা ব্লগ নিয়ে সুন্দর করে গুছিয়ে ইউনিক, ইন্টারেস্টিং ও কোয়ালিটিফুল আর্টিকেল লিখতে থাকুন। একটা ব্লগ আপনার লাইফকে চেঞ্জ করে দিতে পারে।
ভালো করে এস.ই.ও (SEO) করা
আমরা সবাই জানি যে যে SEO হচ্ছে Search Engine Optimization কিন্ত এর সঠিক প্রয়োগ কয়জনই বা জানি? প্রতিযোগিতার যুগে ব্লগিং করা একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপর। ব্লগিং মার্কেটে টিকে থাকতে ও একটি ওয়েবসাইটকে গুগলে র্যাংক করাতে এসইও এর কোনো বিকল্প নাই। তাই এসইও ফ্রেন্ডলী আর্টিকেল লিখুন
অনেকেই এসইও জানেন না আবার অনেকে জেনেও অলসতা করে ভালো করে এসইও করেন না। এভাবে ওয়েবসাইট গুগল সার্চ ইঞ্জিনের পজিশন অনেক নিচে চলে যায়। ফলে সহজে ভিজিটর পাওয়া যায় না। আপনি যেই বিষয় নিয়ে লিখতেছেন এই বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক ব্লগাররা লিখে রাখতে তাই তাদের উপরে যেতে এসইও এর কোনো বিকল্প নেই।
কোয়ালিটি সম্পন্ন আর্টিকেল লেখা
ব্লগ সাইট শুরু করার পরই শুধু আর্টিকেল পোস্ট করলেই হবে না আর্টিকেল কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে কতটা মানসম্মত হয়েছে কটতা মৌলিক ও ইউনিক হয়েছে? ভিজিটর এটা থেকে কতটা উপকৃত হবে। ভিজিটর এই আর্টিকেল কি সময় দিয়ে পড়বে কিনা ইত্যাদি অনেক বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। ব্লগ সাইট খোলার পর কখনই গুনতে থাকবেন না যে কয়টা পোস্ট করলাম বরং এটা গুণতে থাকুন কয়টা ইউনিক, ইন্টারেস্টিং ও কোয়ালিটিফুল পোস্ট করলাম।
থিম বা টেমপ্লেট বার বার চেঞ্জ না করা
নতুন ব্লগাররা এই ভূলটা করে থাকে। মিথ্যা বললে ভূল হবে আমিও যখন নতুন ব্লগিং শুরু করি বার বার থিম চেঞ্জ করে দেখতাম কোনটা ভালো লাগে? কোনটা বেশি সুন্দর? কোনটা কেমন দেখা যায়। তবে এগুলো না করার পরামর্শ দিবো। আপনি যদি এগুলো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাহলে কখন কোয়ালিটিফুল আর্টিকেল লিখবেন।
তাই প্রথমেই একটি দ্রুত লোড নেয় এবং ক্লিন ও সিম্পল একটি টেমপ্লেট সিলেক্ট করে আর্টিকেল লেখা শুরু করে দিন। বার বার থিম চেঞ্জ করতে যাবেন না। এতে এসইও তেও সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং ভিজিটরও একেক সময় একেক থিম দেখে বিব্রত হয়ে যাবে।
সাইট নিয়ে দিধাদন্দে না থাকা
নতুন কন্টেন্ট ক্রিয়টররা ওয়েবসাইটে ভিজিটর না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। অনেকেই সাইটের টপিক পাল্টাতে থাকে। ভাবতে থাকে এই বিষয় না লিখে অন্য বিষয় নিয়ে লিখি এতে হয়তো ভিজিটর পাওয়া যাবে। এতে হিতে বিপরিত হতে পারে।
তাই বারবার টপিক বা নিশ না পাল্টে যেই বিষয় ভালো বুঝেন সেটা নিয়ে মানসম্মত ও ইউনিক পোস্ট করতে থাকুন কিছুদিন পর আস্তে আস্তে ভিজিটর আসতে থাকবে। এবং আপনিও একটি সফল হবেন।
পরিশেষে
দেখুন একটা ব্লগ একটা মানুষের স্বপ্ন। স্বপ্নকে অবহেলা না করে সময় দিয়ে সঠিক উপায়ে কাজ শুরু করুন। নিজের মত করে আর্টিকেল লিখুন কারোর আর্টিকেল কপি করবেন না এটা সবচেয়ে বড় ভূল। ব্লগিং শুরু করে অবহেলা করলে আপনার ডোমেইন এর মেয়াদ শেষ হয়ে আসবে ব্লগিং এর র্যাংক কমতে থাকবে আপনার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। তাই সময়কে কাজে লাগান ব্লগিং ক্যারিয়ারের সফলতা হয়তো আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

