ব্লগিং হচ্ছে নিজের সৃজনশীলতাকে প্রকাশ করা। বর্তমানে ব্লগিং একটি স্মার্ট ও জনপ্রিয় একটি পেশা। ব্লগিং হচ্ছে ওয়েবসাইট/ব্লগসাইটে লেখালেখি করা। দিন দিন ব্লগিং এর চাহিদা বাড়ছে। প্রত্যেক পেশার মানুষ চাইলে ব্লগিং করতে পারে। আমরা যখন গুগল বা অন্য কোনো সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে আমাদের প্রয়োজনীয় কিছু সার্চ করি তখন সার্চ ইঞ্জিন আমাদেরকে অনেকগুলো ফলাফল সাজেস্ট করে।
Read More –জমি ক্রয়ের পূর্বে ক্রেতার করণীয়
ঠিকানা রিসোর্ট, ঠিকানা রিসোর্ট খরচ, ঠিকানা রিসোর্ট কোথায়,
ভাওয়াল রিসোর্ট খরচ, ভাওয়াল রিসোর্ট এন্ড স্পা
মেয়েদের জন্য কোন ফেসওয়াশ সবচেয়ে ভালো
সেখান থেকে আমাদের পছন্দ অনুযায়ী ওয়েবসাইটে ভিজিট করে আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো জেনে নেই। একজন ব্লগার/কন্টেন্ট ক্রিয়টর এর কাজ হচ্ছে ওয়েবসাইটে বিভিন্ন তথ্যমূলক আর্টিকেল পাবলিশ করা যেন কেউ ইন্টারনেটে ঐ বিষয়ে কিছু খুজলে সেই বিষয়ে জেনে নিতে পারে। ব্লগিং সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।
ব্লগিং কি?
Blog একটি ডায়েরীর মত বিষয়। আমরা ডায়রীতে কোনো কিছু লিখে রাখি। তবে সেই ডায়েরী সবাই পড়তে পারে না। যাকে পড়তে দেওয়া হবে শুধু সেই পড়তে পারে। ব্লগ এর ক্ষেত্রেও বিষয়টা এমনই। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে ব্লগ লিখে রাখলেই যে কেউ পড়তে পারবে না। সেই ব্লগকে আপনার পাবলিক করে রাখলে তবেই পড়তে পারবে।
Blog শব্দটি মূলত WebBlog ছিল। পিটার মেরহোলজ তার ওয়েবসাইটে এই শব্দটিকে Blog বলে সম্বোধন করে বিদায় পরবর্তী সময় থেকে এটি ব্লগ হিসেবে পরিচিত লাভ করে আসছে।
ব্লগ লিখার পেশাটাকেই ব্লগিং বলা যেতে পারে। যেই ব্যাক্তি ব্লগ লিখে সেই ব্লগার আর সে যা করছে সেটা হচ্ছে ব্লগিং। তবে এই ব্লগিং দ্বারা উদ্দেশ্যে হচ্ছে একটি ব্লগিং বা অন্য ওয়েবসাইটে কোনো একটা বিষয় সম্পর্কে কিছু লিখা সেটা হতে পারে কোনো তথ্য, উপাত্ত, সংবাদ, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি।
![]() |
| ব্লগিং কিভাবে শিখব |
ব্লগিং কাদের জন্য
যাদের লেখালেখি করতে ভালো লাগে। ক্রিয়েটিভ লেখালেখি করার ইচ্ছাশক্তি যাদের আছে এবং প্রচুর ধৈর্য রয়েছে তাদের জন্য ব্লগিং। ব্লগিং মুলত হচ্ছে মুক্তপেশা। নিজের ইচ্ছাস্বাধীন করা যায়। তবে আপনার অনলাইনে কিছু টেকনিকেল জ্ঞান থাকতে হবে। অন্যথায় ব্লগিং করে বেশি দূর আগাতে পারবেন না।
ব্লগার কি এবং ব্লগার কাকে বলে?
যিনি ব্লগ লিখেন মুলত তিনিই ব্লগার। আবার ব্লগার.কম নামে যেই ওয়েবসাইট রয়েছে সেখানেও একটি ওয়েবব্লগ তৈরি করে ব্লগ লিখা যায়। আবার ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করার অন্যান্য প্লাটফর্ম রয়েছে সেগুলোতেও ব্লগ বিষয়ক ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্লগিং করা যায়।
ওয়েবসাইট এবং ব্লগ সাইটের মধ্যে একটু পার্থক্য রয়েছে। ব্লগ সাইট বানানো হয় পাঠকরা যেন সবসময় আপডেট তথ্য জানতে পারে। অন্য দিকে ওয়েবসাইট থেকেও আপটেড তথ্য প্রচার করা হয় তবে সেটি অনিয়মিত ভাবে আপডেট হয়। এখানে এই দুইটি নিয়ে কথা বলে শেষ করা যাবে না।
ব্লগিং কিভাবে শিখব
ব্লগিং কিভাবে শিখব এই প্রশ্নটি একটি কমন প্রশ্ন। ব্লগিং শেখা বর্তমানে বেশি সহজ। কারণ এখন সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন ও কম্পিউটার রয়েছে। ইন্টারনেট অর্থাৎ গুগলে সার্চ করুন এবং ইউটিউব রয়েছে সেখান থেকে ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে ব্লগিং শুরু করতে পারেন। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনার জানতে পারবেন কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন।
কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো
কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো এই প্রশ্নটাও হয়তো আপনাদের মাথায় ঘুরতেছে। আমি আপনাকে একদম সহজে ও অল্প কথায় বোঝানোর চেষ্টা করবো। ব্লগিং শুরু করতে হলে আপনাকে কিছু বিষয় শিখতে হবে। তবে প্রথমেই আপনার একটি ওয়েবসাইট লাগবে। ওয়েবসাইট তৈরি করার আগে কিছু বিষয় শিখে নিতে হবে। কারণ ওয়েবসাইট তৈরি করার পর বসে থাকলে ব্লগিং এ আগাতে পারবেন না। ওয়েবসাইট তৈরি করার পর কাজ শুরু করে দিতে হবে।
ব্লগিং শুরু করতে আপনার যেই বিষয়গুলো জানতে হবে এবং যেই জিনিসগুলো প্রয়োজন হবে সেগুলো বিস্তারিত নিচে বর্ণনা করা হলো।
ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়
ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায় তা নির্দিষ্ট করে কখনই বলা সম্ভব নয়। বর্তমানে লাখ মানুষ ব্লগিং করে আয় করছে তবে তাদের সবার আয় এক নয়। কেউ বেশি আয় করছে আবার কেউ কম আয় করছে। আপনি কি ধরনের কাজ করবেন সেটার উপর আপনার আয় নির্ভর করবে। তবে ব্লগিং করে আপনি আনলিমিটেড আয় করতে পারবেন সেটা কোটি টাকাও হতে পারে।
আবার ব্লগিং করে ১০ হাজার টাকাও আয় করতে পারবেন। এটা আপনার কাজের গতি ও গুনগত মানের উপর নির্ভর করছে।
তবে বাংলাদেশ থেকে বাংলা ভাষায় ওয়েবসাইট তৈরি করে ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে আয় করাটা সম্পুর্ণ আপনার কাজের উপর নির্ভর করছে। এটা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। আপনি ভালো করে কাজ করে আপনার আয়ের পরিমান বাড়াতে পারবেন।
ব্লগিং শুরু করতে যা লাগবে
ব্লগিং শুরু করতে আপনার কিছু জিনিসপত্র লাগবে পাশাপাশি আপনার প্রচুর ধৈর্য ধরতে হবে এবং লেগে থাকার ক্ষমতা থাকতে হবে। প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও জানার আগ্রহ থাকলে আপনি ব্লগিং শুরু করতে পারেন।
- একটি কম্পিউটার/ল্যাপটপ/ট্যাব/স্মার্টফোন
- ইন্টারনেট সংযোগ
- ইমেইল একাউন্ট
- বাংলা ব্লগ লিখার জন্য বাংলা সফটওয়ার
- শুরু করার জন্য একটি ওয়েবসাইট
ব্লগিং শুরু করার ধাপসমুহ
ব্লগিং শুরু করার পূর্বে কয়েকটি বিষয় বেশ জরুরী। সঠিক নিয়মে ব্লগিং শুরু না করলে ব্লগিং যাত্রায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হতে হবে। তাই শুরুতেই যেন সঠিক নিয়মে ব্লগিং শুরু করতে পারেন সেজন্য কিছু দিক নির্দেশনা দেওয়া হলো
সঠিক ডোমেইন নির্বাচন করা
ব্লগিং শুরু করার জন্য আপনার একটি ওয়েবসাইট লাগবে। আর ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য প্রথমেই আপনার একটি ডোমেইন লাগবে। যদিও ফ্রিতে ব্লাগার.কম থেকে প্রাথমিক ডোমেইন পাবেন। তবে ভালো করে ব্লগিং শুরু করতে একটি কাস্টম ডোমেইন প্রয়োজন। আর ডোমেইন ক্রয়ের পূর্বে অবশ্যই কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী
- টপ লেভের ডোমেইন নির্বাচন করা যেমন- .com, .org, .net, .in, ইত্যাদি
- ফ্রেশ ডোমেইন ব্যবহার করা অর্থাৎ ইতিপূর্বে এই ডোমেইন কেউ রেজিস্ট্রেশন করে থাকলে সেগুলো নেওয়া থেকে বিরত থাকুন
- সুন্দর ডোমেইন নাম নির্বাচন করুন। যেমন- এই ওয়েবসাইট ProvatiTech.com
- সহজে উচ্চারণ করা যায় এমন নাম সিলেক্ট করুন
- সুন্দর ডোমেইন পাঠক মনে রাখতে সহজ হবে এবং ব্লগের জনপ্রিয়তা বাড়বে
ভালো মানের হোস্টিং ব্যবহার করা
আপনি যদি ব্লগার.কম থেকে ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে আপনার হোস্টিং ক্রয় করতে হবে না। এখানে ফ্রিতে হোস্টিং পেয়ে যাবেন। তবে আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস বা অন্যান্য সিএসএস ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে আপনাকে একটি ভালো মানের হোস্টিং ক্রয় করতে হবে। হোস্টিং ক্রয়ের পূর্বে কাস্টমার সাপোর্ট থেকে তাদের সাপোর্ট সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিবেন।
ব্লগ ওয়েবসাইট ডিজাইন করা
ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় করার পর ওয়েবসাইটকে ডিজাইন করে নিতে হবে। ওয়েবসাইট ডিজাইন করার জন্য বিভিন্ন টেমপ্লেট বা থিম পাওয়া যায়। ব্লগার.কম দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করলে ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন ফ্রি ও পেইড টেমপ্লেট পেয়ে যাবেন সেগুলো ব্যবহার করে কাস্টমাইজেশন করে নিতে হবে।
এছাড়া ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্যও বিভিন্ন থিম পেয়ে যাবেন অনলাইনে। সেগুলো ভালো করে কাস্টমাইজ করে নিবেন। ব্লগ ডিজাইন করার সময় যেই বিষয় গুলো মাথায় রাখবেন সেগুলো হলো
- ওয়েবসাইট ডিজাইন একদম সিম্পল ও ক্লিন রাখবেন
- ডিজাইন মোবাইল ফ্রেন্ডলী রাখবেন
- রেস্পনসিভ ওয়েব ডিজাইন রাখবেন
- অতিরিক্ত কালারফুল করবেন না
- অতিরিক্ত উইজগেট ব্যবহার করবেন না
- অতিরিক্ত প্লাগইন ব্যবহার করবে না
- দ্রুত লোড হয় এমন টেমপ্লেট নির্বাচন করুন
আপনি যদি নিজে ব্লগার টেমপ্লেট না কাস্টমাইজেশন করতে পারেন তাহলে ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখে নিবেন। কোনো অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে ডিজাইন করিয়ে নিতে পারেন।
আর্টিকেল লেখা ও পাবলিশ করা
ওয়েবসাইট রেডি হয়ে গেলে এখন আপনার কাজ হচ্ছে নিয়মিত ইউনিক আর্টিকেল লিখা ও পাবলিশ করা। ব্লগিং শুরু করতে হলে অবশ্যই আপনাকে আর্টিকেল লিখা জানতে হবে। আপনি যদি আর্টিকেল লিখা না জানেন তাহলে আর্টিকেল লেখার নিয়ম পড়ে নিন।
আপনার যেই বিষয়ে ভালো জ্ঞান আছে সেই বিষয় সিলেক্ট করে আর্টিকেল লেখা শুরু করুন। আপনার যেই বিষয়ে তেমন ধারণা নেই সেই বিষয়ে আর্টিকেল লিখলে বেশি দূর যেতে পারবেন না। তাই বিষয় নির্বাচন করা বেশ জরুরী একটি কাজ।
আর্টিকেল যদি নিজে না লিখতে চান তাহলে অন্যকে দিয়ে লিখিয়ে নিতে পারেন তবে অবশ্যই আপনাকে আর্টিকেল লেখা জানতে হবে অন্যথায় যারা আপনার আর্টিকেল লিখে দিবে তাদের আর্টিকেল মানসম্মত হয়েছে কিনা সেটা যাচাই করতে পারবেন না।
ব্লগ থেকে কিভাবে আয় করা যায়?
ব্লগ ওয়েবসাইট পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলে আপনি গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। গুগল এডসেন্স আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে। সেই বিজ্ঞাপন আপনার পাঠকরা দেখবে সেই বিজ্ঞাপন এর আয় থেকে নির্দিষ্ট পরিমান রেভিনিউ আপনার সাথে শেয়ার করবে। এভাবে ব্লগ থেকে আয় করা যায়।
এছাড়াও আপনার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পন্য বা পরিষেবা প্রচার করার জন্য স্পন্সর করবে সেখান থেকেও আয় করতে পারবেন। এছাড়াও গুগল এডসেন্স এর পাশাপাশি অন্যান্য বিজ্ঞাপন দাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের বিজ্ঞাপন দিয়ে আয় করতে পারবেন।
পরিশেষে
ব্লগিং নিয়ে এক আর্টিকেলে সবকিছু বলা সম্ভব নয়। এই ওয়েবসাইটে নিয়মিত ব্লগিং এর উপর আর্টিকেল প্রকাশ হবে। তাই ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। এখানে ব্লগিং শুরু করার একটা ধারনা দেওয়া হলো। ব্লগিং শুরু করার পর আরও অনেক কাজ রয়েছে যেই বিষয়গুলো নিয়ে প্রভাতিটেক.কম ওয়েবসাইটে নিয়মিত আর্টিকেল প্রকাশ করা হবে।

